The most-visited English Wikipedia articles, updated daily. Learn more...
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ (জন্মনাম মহ্মদ আলী ঝিনাভাই; ২৫ ডিসেম্বর ১৮৭৬ – ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮) ছিলেন একজন গুজরাটি বংশদ্ভুত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯১৩ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা পর্যন্ত জিন্নাহ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন এবং আমৃত্যু এই পদে বহাল থাকেন। পাকিস্তানে তাকে কায়েদে আজম (মহান নেতা) ও বাবায়ে কওম (জাতির পিতা) হিসেবে সম্মান করা হয়।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ – ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮ ; বাংলা ৩১ ভাদ্র ১২৮৩ - ২ মাঘ ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ) ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক, ও গল্পকার। তিনি দক্ষিণ এশিয়া এবং বাংলা ভাষার অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। লেখালিখির গুরু মানেন ফরাসি সাহিত্যিক এমিল জোলাকে। তার অনেক উপন্যাস ভারতবর্ষের প্রধান ভাষাগুলোতে অনূদিত হয়েছে। বড়দিদি (১৯১৩), পরিণীতা (১৯১৪), পল্লীসমাজ (১৯১৬), দেবদাস (১৯১৭), চরিত্রহীন (১৯১৭), শ্রীকান্ত (চারখণ্ডে ১৯১৭-১৯৩৩), দত্তা (১৯১৮), গৃহদাহ (১৯২০), পথের দাবী (১৯২৬), শেষ প্রশ্ন (১৯৩১) ইত্যাদি শরৎচন্দ্র রচিত বিখ্যাত উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে খ্যাত। তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক পান৷ এছাড়াও, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ডিলিট' উপাধি পান ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে। শরৎচন্দ্রের অনেকগুলি উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে, এবং সেগুলো প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
২২শে সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালে, ভারতীয় পাঞ্জাবের অমৃতসরে ভারত বিভাজনের সময় মুসলিম শরণার্থীদের বহনকারী ট্রেনে হামলা চালানো হয়। উক্ত হামলায় তিন লক্ষ্য মুসলিম শরণার্থী নিহত হন এবং আরও এক লক্ষ্য জন আহত হন। কয়েক হাজারের মত যাত্রী দুর্ঘটনায় কোনোরূপ আহত হননি। এই হত্যাকাণ্ডগুলো প্রমাণ করে যে, শারীরিক হামলার বিরুদ্ধে ট্রেনের বগিগুলো খুব সামান্যই নিরাপত্তা দিতে সক্ষম ছিল। রাইফেল, তরবারি ও বর্শায় সজ্জিত হিন্দু ও শিখদের দ্বারা মুসলিম শরণার্থীদের ওপর এমন একাধিক হামলার পর, পাকিস্তান সরকার ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ভারতের পাঞ্জাব থেকে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। খুবই নির্মম হিন্দু ও শিখ জাঠরা, পূর্ব পাঞ্জাব থেকে এর মুসলিম জনসংখ্যাকে জাতিগতভাবে নির্মূল করার জন্য আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছিল। এর আগে সেপ্টেম্বরে, তারা অমৃতসরের খালসা কলেজের কাছে পাকিস্তানগামী একটি ট্রেনে দশ হাজার মুসলিম শরণার্থীকে হত্যা করে। ভারতের পূর্ব পাঞ্জাবে এই সহিংসতার মাত্রা সবচেয়ে প্রকট ছিল। ১৯৪৭ সালের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিম পাঞ্জাবের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকারী স্যার ফ্রান্সিস মুদি উল্লেখ করেন যে, ১৯৪৭ সালের ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারতের পূর্ব পাঞ্জাবের অমৃতসর এবং জলন্ধর জেলা থেকে পশ্চিম দিকে সীমান্তের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একাধিক শরণার্থীদের বহনকারী ট্রেনের ওপর পরপর বেশ কয়েকটি হামলা হয়, যার মধ্যে একটি ট্রেনের প্রত্যেক যাত্রীকে হত্যা করা হয়।
জিন্নাহ পরিবার (উর্দু: خاندان جناح; গুজরাতি: ઝીણા કુટુંબ,جھينا کُٹومب) পাকিস্তানের একটি রাজনৈতিক পরিবার। জিন্নাহরা ভারতের মুসলমানদের জন্য পৃথক দেশ পাকিস্তান গঠনের জন্য পাকিস্তান আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই পরিবার নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ও তার উত্তরসূরি মুসলিম লীগকে ১৯৫৮ সালের সামরিক আইনে বিলুপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নেতৃত্ব প্রদান করেছে। তারা মূলত গুজরাতি হলেও উনিশ শতকে গুজরাতের কাঠিয়াওয়ার থেকে করাচিতে চলে এসেছিলেন।
জয় বাংলা একটি স্লোগান যা বাংলাদেশে ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে ব্যবহৃত হয়। এটি বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান ছিল। ১৯২২ সালে কাজী নজরুল ইসলাম তার ভাঙার গান কাব্যে ‘পূর্ণ-অভিনন্দন’ কবিতায় সর্বপ্রথম "জয় বাঙলা" শব্দ যুগল ব্যবহার করেন। নজরুলের কাব্যে উৎপত্তির পর কালক্রমে এটি স্লোগানে পরিণত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই স্লোগান জনগণকে তাদের মুক্তিসংগ্রামে প্রবলভাবে প্রেরণা যুগিয়েছিল। ভারতের বাঙালি অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, বরাক উপত্যকার লোকেরাও বাঙালির ঐক্য বোঝাতে এর ব্যবহার করে থাকে। এর আগে বাঙালি কখনো এত তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান দেয় নি, যাতে একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, সংস্কৃতি, দেশ, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ। জয় বাংলা স্লোগান ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঙালির প্রেরণার উৎস। সফল অপারেশন শেষে বা যুদ্ধ জয়ের পর অবধারিত ভাবে মুক্তিযোদ্ধারা চিৎকার করে "জয় বাংলা" স্লোগান দিয়ে জয় উদ্যাপন করত।
কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ – ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও সঙ্গীতজ্ঞ। মাত্র ২৩ বছরের সাহিত্যিক জীবনে তিনি যে বিপুল পরিমাণ সৃষ্টিশীল কাজ করেছেন তা এককথায় অতুলনীয়। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
বাংলাদেশ () দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়, পূর্ব সীমান্তে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম, দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মিয়ানমারের চিন ও রাখাইন রাজ্য এবং দক্ষিণ উপকূলে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপের সিংহভাগ অঞ্চলজুড়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ড অবস্থিত। জনসংখ্যার বিচারে প্রায় ২০ কোটিরও অধিক জনসংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৭ম বৃহত্তম দেশ। নদীমাতৃক বাংলাদেশ ভূখণ্ডের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ৫৭ টি আন্তর্জাতিক নদী। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে ও দক্ষিণ-পূর্বে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় মেঘের সাথে মিশে আছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন ও দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশে অবস্থিত।
জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার একটি বিবৃতি পাঠ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।
বাংলা ভাষা একটি ধ্রুপদি ইন্দো-আর্য ভাষা, যা দক্ষিণ এশিয়ার বাঙালি জাতির প্রধান কথ্য ও লেখ্য ভাষা। বিভিন্ন সময়ের বইপত্র ও দলিলদস্তাবেজে বাঙ্গালা, বাঙ্গলা এবং বাঙলা ইত্যাদি বানানে লিখিত হয়েছে। এছাড়া এটি “বঙ্গভাষা” হিসেবেও উল্লিখিত হয়ে থাকে। বাংলা ভাষার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০ – ২৯ জুলাই ১৮৯১; ১২ আশ্বিন ১২২৭ – ১৩ শ্রাবণ ১২৯৭ বঙ্গাব্দ) ঊনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। সংস্কৃত ছাড়াও বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপত্তি ছিল তার। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে যুক্তিবহ ও সহজপাঠ্য করে তোলেন। বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার তিনিই। তাকে বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী বলে অভিহিত করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি রচনা করেছেন যুগান্তকারী শিশুপাঠ্য বর্ণপরিচয়-সহ একাধিক পাঠ্যপুস্তক, সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থ। সংস্কৃত, হিন্দি ও ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ সাহিত্য ও জ্ঞানবিজ্ঞান সংক্রান্ত বহু রচনা। নারীমুক্তির আন্দোলনেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।
ফাতেমা জিন্নাহ (উর্দু: فاطمہ جناح; ৩০ জুলাই ১৮৯৩ – ৯ জুলাই ১৯৬৭) ছিলেন একজন পাকিস্তানি দন্তচিকিৎসক, জীবনীলেখক, রাজনীতিবিদ ও পাকিস্তানের নেতৃত্বস্থানীয় প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দন্ত চিকিৎসায় ডিগ্রি লাভ করার পর তিনি তার বড় ভাই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সহকর্মী ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের তিনি একজন কঠোর সমালোচক ছিলেন। দ্বিজাতি তত্ত্বের পক্ষে তিনি কথা বলেছিলেন এবং নিখিল ভারত মুসলিম লীগের একজন নেতৃস্থানীয় সদস্য হয়ে উঠেন। পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর ফাতেমা জিন্নাহ পাকিস্তান ওমেনস এসোসিয়েশন গঠন করেন। নবগঠিত রাষ্ট্রে অভিবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য এই সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুর পর তিনি তার নিজস্ব কাজ চালিয়ে যান তবে ১৯৬৫ সালের আগ পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। এসময় তিনি সামরিক শাসন আইয়ুব খানের বিপক্ষে নির্বাচনে অংশ নেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে ২.৪ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যা বাংলাদেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রাশিয়ার রোসাটোম স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় নির্মিত হয়।
শহীদ আব্দুল মালেক (মে ১৯৪৭–১৫ আগস্ট ১৯৬৯) ১৯৬০-এর দশকের একজন ছাত্রনেতা ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন পাকিস্তানে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে দুই দলের মধ্যে চলা সংঘর্ষে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন ও ১৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার হত্যাকাণ্ডের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতি বছরের ১৫ আগস্টকে "ইসলামী শিক্ষা দিবস" হিসেবে পালন করে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন একাধারে বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে “গুরুদেব”, “কবিগুরু” ও “বিশ্বকবি” অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৪টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালেগীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি প্রথম অ-ইউরোপীয় এবং প্রথম এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হন।
বাংলা ভাষা আন্দোলন তথা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত পাকিস্তানের তৎকালীন প্রদেশ পূর্ববঙ্গে (১৯৫৬ সালের পর পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমানে বাংলাদেশ) সংঘটিত একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন। মৌলিক অধিকার রক্ষাকল্পে মাতৃভাষা বাংলাকে ঘিরে প্রদেশে সৃষ্ট এই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশটির অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণদাবির বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সরকারি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালে তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতে অক্সব্রিজ শিক্ষা ব্যবস্থা অনুসরণে এটি স্থাপিত হয়। এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই। সূচনালগ্নে ছাত্র-শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রিত হবার প্রেক্ষাপটে এটি "প্রাচ্যের অক্সফোর্ড" নামে খ্যাতি লাভ করে।
বাগধারা শব্দের আভিধানিক অর্থ কথার বচন ভঙ্গি বা ভাব বা কথার ঢং। বাক্য বা বাক্যাংশের বিশেষ প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় বাগধারা। বিশেষ প্রসঙ্গে শব্দের বিশিষ্টার্থক প্রয়োগের ফলে বাংলায় বহু বাগধারা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের প্রয়োগের পদগুচ্ছ বা বাক্যাংশ আভিধানিক অর্থ ছাপিয়ে বিশেষ অর্থের দ্যোতক হয়ে ওঠে। বলা যায় বাক্যার্থ ছাপিয়ে এখানে ব্যাঙ্গার্থই প্রধান।
এক্স এক্স এক্স এক্স (অ্যালবাম)
এক্স এক্স এক্স এক্স (ইংরেজি: XXXX) কানাডীয় নৃত্য-পাঙ্ক ব্যান্ড ইউ সে পার্টি (পূর্বনাম ইউ সে পার্টি!
গোলাম আযম (৭ নভেম্বর ১৯২২ – ২৩ অক্টোবর ২০১৪) ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী। গোলাম আযম ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন।
বিশ্বকর্মা পূজা বা বিশ্বকর্মা জয়ন্তী হচ্ছে একটি হিন্দুধর্মীয় উৎসব। হিন্দু স্থাপত্য দেবতা বিশ্বকর্মার সন্তুষ্টি লাভের আশায় এই পূজা করা হয়। তাকে স্বয়ম্ভু এবং বিশ্বের স্রষ্টা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তিনি দেবতা কৃষ্ণের রাজধানী দ্বারকা শহরটি নির্মাণ করেছিলেন। এছাড়াও তিনি রামায়ণে বর্ণিত লঙ্কা নগরী, পাণ্ডবদের মায়া সভা, রামায়ণে উল্লিখিত ব্রহ্মার পুষ্পক রথ, দেবতাদের বিভিন্ন গমনাগমনের জন্য বিভিন্ন বাহন, দেবপুরী এবং বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিব এর ত্রিশূল, কুবের এর অস্ত্র, ইন্দ্রের বজ্র, কার্তিকের শক্তি সহ দেবতাদের জন্য বহু কল্পিত অস্ত্রের স্রষ্টা। বিশ্বকর্মার ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে তিনি এই বিশ্বের সব কর্মের সম্পাদক। তিনি সব ধরনের শিল্পের প্রকাশক। শিল্পবিদ্যায় বিশ্বকর্মার রয়েছে একচ্ছত্র অধিকার। তিনি নিজেই চতুঃষষ্টিকলা, স্থাপত্যবেদ এবং উপবেদ এর প্রকাশক। কথিত আছে, পুরীর বিখ্যাত জগন্নাথমূর্তিও তিনিই নির্মাণ করেন। তাকে স্বর্গীয় সূত্রধরও বলা হয়।
খাজা নাজিমুদ্দিন KCIE (উর্দু: خواجہ ناظم الدین; বাংলা: খাজা নাজিমুদ্দীন; ১৯ জুলাই ১৮৯৪ – ২২ অক্টোবর ১৯৬৪) ছিলেন একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ। তিনি ঢাকার নবাব পরিবারের সদস্য ছিলেন। নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সদস্য হিসেবে নাজিমুদ্দিন দুইবার বাংলার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যু পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হন। ১৯৫১ সালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের মৃত্যুর পর তিনি পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি রক্ষণশীল গড়নের ছিলেন এবং তাকে অজনপ্রিয় বিবেচনা করা হয়।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন (আরবি: إِنَّا لِلَّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ; ) হলো কুরআনের একটি আয়াত (বাক্য) বা দোয়া, যার বাংলা অর্থ হলো "আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাব"। এটি ইস্তিরজা' (আরবি: اِسْتِرْجَاع, অনুবাদ 'প্রত্যাবর্তন') নামেও পরিচিত। সাধারণত মুসলমানরা তাদের বেদনার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে বাক্যটি উচ্চারণ করে, বাক্যটি যেকোনো মুসলিমের মৃত্যু বা যেকোনো দুঃসংবাদেই পাঠ করা হয়।
যৌনসঙ্গম মূলতঃ নারী-পুরুষের মধ্যকার একটি শারীরিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া যার মধ্য দিয়ে প্রজনন বা বংশবিস্তার ঘটে থাকে। এই প্রক্রিয়ার প্রধান আঙ্গিক হচ্ছে স্ত্রীর যোনীতে পুরুষের লিঙ্গ প্রবিষ্টকরণপূর্বক অঙ্গচালনা যার ফলে যোনী অভ্যন্তরে পুরুষের বীর্যস্খলন ঘটে। বই-পত্রে ও কথ্যভাষায় একে মৈথুন, রতিক্রিয়া, রতিমিলন, যৌনমিলন, সঙ্গম, নারীসঙ্গম, যৌনসংসর্গ, যৌনসহবাস, সহবাস, রমণক্রিয়া, চোদাচুদি বলেও আখ্যায়িত করা হয়। সাধারণভাবে যৌনসঙ্গম বিবাহিত নারী-পুরুষের দাম্পত্য জীবনের একটি স্বাভাবিক কর্মপ্রক্রিয়া। যৌনসঙ্গমের মধ্য দিয়ে কেবল প্রজনন বা বংশবিস্তার ঘটে তা নয়, এই প্রক্রিয়ায় নারী-পুরুষ উভয়ের চরমানন্দ বা যৌনসুখ লাভ হয়।
শামসুন্নাহার স্মৃতি (জন্ম ২৪ অক্টোবর ১৯৯২) যিনি পরীমনি নামে অধিক পরিচিত, হলেন একজন বাংলাদেশী মডেল ও অভিনেত্রী। ২০১৫ সালে ভালোবাসা সীমাহীন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক হয়। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সফল অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচিত হন। তবে রানা প্লাজা (২০১৫) ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। এরপর তিনি রক্ত (২০১৬), স্বপ্নজাল (২০১৮), আমার প্রেম আমার প্রিয়া (২০১৯), বিশ্বসুন্দরী (২০২০), স্ফুলিঙ্গ (২০২১), গুণিন (২০২২), অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন (২০২৩), মা (২০২৩) সহ বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী (গুজরাতি: નરેન્દ્ર દામોદરદાસ મોદી; ; জন্ম: ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৫০) একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ। তিনি ২০১৪ সালের মে মাস থেকে ভারতের চতুর্দশতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোদি ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী এবং উত্তরপ্রদেশের বারানসীর সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিক দলের সদস্য। তিনি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ষোড়শ সাধারণ নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টিকে নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে জয়লাভ করেছিলেন।
শিশুদের মধ্যে যৌন আচরণ একটি সাধারণ ঘটনা। এই আচরণ স্বাভাবিক ও বিকাশগতভাবে উপযুক্ত হতে পারে। আবার এটি আপত্তিজনক বা ক্ষতিকারকও হতে পারে। এই আচরণের নানারকম প্রকাশ দেখা যায়। এর মধ্যে আত্ম-উদ্দীপনা বা যৌনতার প্রতি আগ্রহ থাকতে পারে। নিজের বা অন্যের লিঙ্গ সম্পর্কে কৌতূহল থাকাও স্বাভাবিক। প্রদর্শন বাতিকতা বা ‘এক্সিবিশনিজম’ এর একটি উদাহরণ। এর অর্থ হলো অন্য শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ককে নিজের শরীর দেখানো। এছাড়া দর্শনকামিতা বা ‘ভয়রিজম’ দেখা যেতে পারে। এটি হলো অন্য শিশু বা প্রাপ্তবয়স্কের শরীর দেখার প্রচেষ্টা। লিঙ্গভিত্তিক আচরণ, ও পারস্পরিক যৌন ক্রিয়াকলাপও এর অন্তর্ভুক্ত।
গণেশ চতুর্থী হিন্দু ধর্মের একটি প্রধান উৎসব, যা হিন্দু দেবতা গণেশের জন্মোৎসব হিসেবে পালিত হয়। এটি বিনায়ক চতুর্থী অথবা বিনায়ক চবিথি নামেও পরিচিত। উৎসবের মূল বৈশিষ্ট্য হলো বাড়িতে ও জনসমক্ষে সাময়িক মণ্ডপে গণেশের প্রতিমা স্থাপন, বৈদিক স্তোত্রপাঠ, উপবাস, পূজা ও প্রসাদ বিতরণ। বিশেষত মোদক এই উৎসবের নৈবেদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়। দশ দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটে অনন্ত চতুর্দশীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে, যা নদী, সমুদ্র বা অন্য জলাশয়ে সম্পন্ন হয়। কেবল মুম্বাই শহরেই প্রতিবছর প্রায় দেড় লক্ষ প্রতিমা বিসর্জন করা হয়।
শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ (সিএসইসি) বলতে একগুচ্ছ অপরাধ এবং কর্মকাণ্ডকে বোঝায়। এতে আর্থিক বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। বাণিজ্যিক যৌন শোষণের আওতায় নানা ধরনের অপরাধ রয়েছে। শিশুকে পতিতাবৃত্তিতে এর অন্যতম। যৌন পাচার ও বাল্যবিবাহও এর অন্তর্ভুক্ত। শিশু যৌন পর্যটন এবং যৌনকাজে শিশুদের শোষণের অন্য যেকোনো উদ্যোগও এতে শামিল। অফিস অফ জুভেনাইল জাস্টিস অ্যান্ড ডেলিকোয়েন্সি প্রিভেনশন তাদের মতে এই অপরাধের বিষয়ে খুব কম অভিযোগ জানানো হয়, "ভুক্তভোগী ও অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন, তাদের সংখ্যা পরিমাপ করাও জটিল।" এসব কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণের জাতীয় পরিসংখ্যান তৈরি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী আনুমানিক দশ লক্ষ শিশু বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার হয় বলে ধারণা করা হয়। এই শিশুদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেয়ে।
হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী (জন্ম: সেপ্টেম্বর ৮, ১৮৯২ - মৃত্যু: ডিসেম্বর ৫, ১৯৬৩) ছিলেন একজন পূর্ব পাকিস্তানি বাঙালি রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের ৫ম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। যুক্তফ্রন্ট গঠনের মূলনেতাদের মধ্যে অন্যতম। কলকাতার ডেপুটি মেয়র (১৯২৩), অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী (১৯৪৬ - ১৯৪৭), নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি (১৯৪৯) এ মধ্যে অন্যতম। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তাই সুধী সমাজ কর্তৃক ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত হন। তিনি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু। সোহরাওয়ার্দীকে ভারতে একটি বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে দেখা হয় সরাসরি কলকাতা দাঙ্গা জন্য দায়ী হওয়ার কারণে।
অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী সংকলন। ২০১২ সালের জুনে বইটি দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, চিনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি, তুর্কি, নেপালি, স্পেনীয়, অসমীয়া, ইতালীয়,মালয়, কোরীয়, রুশ ,মারাঠি, গ্রিক, থাই এবং সর্বশেষ ত্রিপুরা ভাষায় বইটির অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
করেনজিত কৌর বোহরা (ইংরেজি: Karenjit Kaur Vohra; সানি লিওন () নামে সুপরিচিত; জন্ম: ১৩ মে ১৯৮১) হলেন একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডীয় এবং মার্কিন অভিনেত্রী, ব্যবসায়ী, মডেল এবং প্রাক্তন পর্নোতারকা। এছাড়াও তিনি কারেন মালহোত্রা নামেও অভিনয় করেছেন। ২০০৩ সালে তাকে পেন্টহাউস বর্ষসেরা পেটস নির্বাচিত হন, অতঃপর তিনি ভিভিড এন্টারটেনমেন্টের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১০ সালে, তিনি ম্যাক্সিম বিশ্বসেরা ১০ পর্ণোতারকার একজন নির্বাচিত হন। তিনি বেশ কয়েকটি স্বাধীন মূলধারার চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অভিনয় করেছেন। ২০১২ সালে, তিনি পূজা ভাটের জিসম ২ নামক যৌনাবেদনময়ী থ্রিলার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেছেন। বর্তমানে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ করেন।
দ্বিজাতি তত্ত্ব হল এমন একটি মতাদর্শ যেখানে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের প্রাথমিকভাবে কেবলমাত্র তাদের ধর্মের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমান এবং হিন্দু দুটি স্বতন্ত্র জাতীয়তার পরিচয় দেয়া হয়েছে, এবং যেখানে ভাষা, বর্ণ এবং অন্যান্য বৈশিষ্টের তুলনায় ধর্মকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। পাকিস্তান আন্দোলন এবং ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের অন্যতম কারণ ছিলো এই দ্বিজাতি তত্ত্ব।
আবুল কাশেম ফজলুল হক (জন্ম: ২৬ অক্টোবর ১৮৭৩ - মৃত্যু: ২৭ এপ্রিল ১৯৬২) একজন বাঙালি আইনজীবী ও লেখক এবং সংসদ সদস্য ছিলেন। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাঙালি কূটনীতিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের নিকট শের-ই-বাংলা এবং 'হক সাহেব' নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক অনেক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার মধ্যে কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৫৫), পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (১৯৫৬-১৯৫৮) অন্যতম। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বাংলায় তিনি কৃষক প্রজা পার্টি মাধ্যমে নিচু জাতের হিন্দু ও মুসলমান উভয় কৃষকদের স্বার্থের পক্ষেই সওয়াল করতেন। এমনকি মুসলিম লীগের সঙ্গে কৃষক প্রজা পার্টির লড়াইও চলেছিলো।
স্যার এম (মোক্ষগুন্ডম) বিশ্বেশ্বরায়া এফএএসসি, (স্যার এমভি (১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৬০ - ১৪ এপ্রিল ১৯৬২) নামে বেশি পরিচিত) ছিলেন একজন ভারতীয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও রাষ্ট্রনায়ক। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ সময়ে তিনি মহীশূর রাজ্যের ১৯তম দেওয়ান ছিলেন। তিনি দেশের পুনে অবস্থিত তৎকালীন সর্বোত্তম ও এশিয়ার তৃতীয় প্রাচীন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হতে ডিগ্রি লাভ করেন। জনসেবার স্বীকৃতি স্বরূপ ব্রিটিশ ভারত সরকারের পঞ্চম জর্জ "নাইট" ও ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন ভারত সরকার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্ন প্রদান করে। তাঁকে সম্মান জানাতে তার জন্মদিন ১৫ ই সেপ্টেম্বর প্রতি বছর ভারত, শ্রীলঙ্কা ও তানজানিয়ায় 'ইঞ্জিনিয়ার্স ডে' হিসাবে পালিত হয়। মহীশূর শহরের উত্তর-পশ্চিম শহরতলিতে ' কৃষ্ণ রাজা সাগর' জলাধার ও বাঁধের ডিজাইন তিনি করেন। হায়দ্রাবাদ শহরের বন্যা সুরক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রধান ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন তিনি।
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (গুজরাতি: મોહનદાસ કરમચંદ ગાંધી ; মোহনদাস কর্মচন্দ গান্ধী বা মহাত্মা গান্ধী; ২ অক্টোবর ১৮৬৯ – ৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮) ছিলেন অন্যতম ভারতীয় রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে একজন এবং প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক নেতা। তাঁকে গান্ধীজি, বাপু, বাপুজি, গান্ধীবুড়ো বা ভারতের জাতির জনক নামেও ডাকা হয়। এছাড়াও তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। যার মাধ্যমে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনসাধারণ তাদের অভিমত প্রকাশ করে। এ আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন দেশ তৈরি করা হয়েছিল। ভারত অধিরাজ্য বর্তমান সময়ে ভারতীয় প্রজাতন্ত্র; পাকিস্তান অধিরাজ্য বর্তমান সময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হিসাবে পরিচিত। বিভাজনের ঘটনাটি জেলা-ভিত্তিক অমুসলিম বা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশের বিভাজনের সাথে জড়িত ছিল। তবে ভারত বিভাজনের সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী, রাজকীয় ভারতীয় নৌবাহিনী, ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস, রেল ও কেন্দ্রীয় কোষাগারও বিভক্ত করে দেওয়া হয়। এই বিভাজনটি ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭-এ বর্ণিত হয়েছিল এবং এর ফলে ভারতে ব্রিটিশ রাজ বা রাজশক্তির অবসান ঘটে। দুটি স্ব-শাসিত দেশ ভারত ও পাকিস্তান আইনত ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে অস্তিত্ব লাভ করে।
সুভাষচন্দ্র বসু (২৩ জানুয়ারি ১৮৯৭ – ১৮ আগস্ট ১৯৪৫) ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক চিরস্মরণীয় জাতীয়তাবাদী নেতা, যিনি এই সংগ্রামে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। বসু ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর সর্বোত্তম নেতা এবং আজাদ হিন্দ সরকারের প্রথম প্রধান ছিলেন। বিখ্যাত ভারতীয় কবি এবং নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে দেশনায়ক উপাধি দিয়েছিলেন। তিনি নেতাজি নামেও সমধিক পরিচিত। সুভাষচন্দ্র বসু পরপর দু'বার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে আদর্শগত সংঘাত, কংগ্রেসের বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা এবং বিরুদ্ধ-মত প্রকাশ করার জন্য তাকে পদত্যাগ করতে হয়। পরবর্তী কালে তিনি অল ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লক নামে একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করেন।
স্টিভ ওলফ যিনি জনি সিন্স নামে বেশি পরিচিত, একজন আমেরিকান পর্নোগ্রাফিক অভিনেতা। তিনি প্রায় ৫০০টি প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের দক্ষতার কারণে তিনি বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন এবং বিভিন্ন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৫ সালের শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য এভিএন পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। ব্রাজার্স কোম্পানির ভিডিওতে তার উপস্থিতি তাকে অনেক জনপ্রিয়তা দিয়েছিল
আবদুল হামিদ খান ভাসানী (১২ ডিসেম্বর ১৮৮০ – ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬), যিনি মাওলানা ভাসানী নামেই সমধিক পরিচিত, ছিলেন বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের নেতা, যিনি জীবদ্দশায় ১৯৪৭-এ সৃষ্ট পাকিস্তান ও ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে “মজলুম জননেতা” হিসাবে সমধিক পরিচিত। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়ও তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনের বেশিরভাগ সময়ই তিনি চীনের মাওপন্থী কম্যুনিস্ট তথা বামধারার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তাছাড়াও উপমহাদেশে কম্যুনিস্ট ধারার রাজনীতির প্রসারে তার বিশেষ অবদান ছিল। এজন্য তার অনুসারীরা তাকে “লাল মওলানা” নামেও ডাকতেন। তিনি কৃষকদের জন্য পূর্ব পাকিস্তান কৃষক পার্টি করার জন্য সারাদেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
ভারত (), যার সরকারি নাম ভারতীয় প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। ভৌগোলিক আয়তনের বিচারে এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্র। অন্যদিকে, জনসংখ্যার বিচারে এটি বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল রাষ্ট্র এবং পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ভারতের পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তান উত্তর-পূর্বে চীন, নেপাল ও ভুটান এবং পূর্বে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার অবস্থিত। এছাড়া, ভারত মহাসাগরে অবস্থিত শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ইন্দোনেশিয়া হল ভারতের নিকটবর্তী কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্র। দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পশ্চিমে আরব সাগর ও পূর্বে বঙ্গোপসাগর দ্বারা বেষ্টিত ভারতের উপকূলরেখার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ৭,৫১৭ কিলোমিটার (৪,৬৭১ মাইল)।
নিম করোলি বাবা ( হিন্দি: नीम करौली बाबा, প্রতিবর্ণীকৃত: nīm karaulī bābā ) বা নীব করোরি বাবা ( হিন্দি: नीब करौरी बाबा, প্রতিবর্ণীকৃত: nīb karaurī bābā ) ( ১৯০০- ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩), যিনি তাঁর অনুসারীদের কাছে 'মহারাজ-জি' নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন হিন্দু গুরু এবং হিন্দু দেবতা হনুমানের ভক্ত। তিনি ১৯৬০ এবং ৭০ এর দশকে ভারতে ভ্রমণকারী আমেরিকানদের অনেকের আধ্যাত্মিক গুরু হিসাবে ভারতের বাইরে পরিচিত, সবচেয়ে সুপরিচিত হলেন আধ্যাত্মিক শিক্ষক রাম দাস এবং ভগবান দাস, এবং সঙ্গীতজ্ঞ কৃষ্ণ দাস এবং জয় উত্তল । তাঁর আশ্রমগুলি কাইঞ্চি, বৃন্দাবন, ঋষিকেশ, সিমলা, ফারুখাবাদের খিমাসেপুরের কাছে নিম করোলি গ্রাম, ভূমিধর, হনুমানগড়ী এবং ভারতের দিল্লি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে তাওসে ।তিনি হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ মার্চ ১৯২০ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫), সংক্ষিপ্তাকারে শেখ মুজিব বা বঙ্গবন্ধু, ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি পাকিস্তান আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন। শুরুতে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি, এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনের প্রয়াস এবং পরবর্তীকালে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেছনের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়। জনসাধারণের কাছে তিনি “শেখ মুজিব” বা “শেখ সাহেব” নামে এবং তার উপাধি “বঙ্গবন্ধু” হিসেবেই অধিক পরিচিত।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সংক্ষেপে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। দলটি ১৯৭১/২–৭৫, ১৯৯৬–২০০১ এবং ২০০৯–২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল ছিল। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী প্রধানতম দল। ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার দায়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ মে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে।
নবাবজাদা লিয়াকত আলি খান (২ অক্টোবর ১৮৯৬ – ১৬ অক্টোবর ১৯৫১) ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত মুসলিম রাজনীতিবিদ এবং পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা হিসেবে তিনি রাজনীতিতে উঠে আসেন। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত বিভাগ ও পাকিস্তান সৃষ্টিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। পাকিস্তানের তিনি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্র ডানহাত হিসেবে পরিচিত। তিনি কায়েদ-এ-মিল্লাত, শহীদ-এ-মিল্লাত উপাধিতে ভূষিত হন। লিয়াকত আলি খান আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৯৩০-এর দশকে তিনি ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন। তিনি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ভারতে ফিরে আসতে আগ্রহী করে তোলেন ; এরই ফলশ্রুতিতেই এক পর্যায়ে পাকিস্তান আন্দোলন শুরু হয়। চল্লিশের দশকে লাহোর প্রস্তাব পাশ হবার পরে লিয়াকত আলি খান পাকিস্তান আন্দোলন এগিয়ে নিতে জিন্নাহকে সাহায্য করেন। পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশবাসীর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেন ; বিশেষ ক'রে ভারত পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের বিষয় কাশ্মীর সমস্যাকে তিনি জাতিসংঘে উত্থাপন করেন।
গণেশ (সংস্কৃত: गणेश, গণেশ্অ) হলেন হিন্দুধর্মের সর্বাধিক পরিচিত ও সর্বাধিক পূজিত দেবতাদের অন্যতম। তিনি গণপতি, বিঘ্নেশ্বর, বিনায়ক, গজপতি, একদন্ত ইত্যাদি নামেও পরিচিত। নেপাল , শ্রীলঙ্কা , থাইল্যান্ড , ইন্দোনেশিয়া ( জাভা এবং বালি ), সিঙ্গাপুর , মালয়েশিয়া , ফিলিপাইন , বাংলাদেশ , ফিজি, গায়ানা , মরিশাস এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সহ বৃহৎ জাতিগত ভারতীয় জনসংখ্যার দেশগুলিতে গণেশের প্রতি ভক্তি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত । জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যেও গণেশ-ভক্তিবাদ মিশে গিয়ে গণেশ পূজার প্রথা বিস্তার লাভ করেছে।
তারেক রহমান (জন্ম: ২০ নভেম্বর ১৯৬৮) হলেন বাংলাদেশের বর্তমান ১১ তম (ক্রমে ১৭ তম) প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান। সাধারণত তিনি তারেক জিয়া নামে বেশি পরিচিত; যার শেষাংশটি এসেছে তার পিতা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম থেকে। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র।
পশ্চিমবঙ্গ পূর্ব ভারতে অবস্থিত একটি রাজ্য। এটি বঙ্গোপসাগরের উত্তর দিকে ও হিমালয়ের দক্ষিণ দিকে বাংলাদেশের সীমান্তে অবস্থিত। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী এই রাজ্যের জনসংখ্যা ৯ কোটি ১৩ লক্ষেরও বেশি, আর এই নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের চতুর্থ সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য। এই রাজ্যের আয়তন প্রায় ৮৮,৭৫২ বর্গকিমি, আর এই নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের ত্রয়োদশ বৃহত্তম রাজ্য।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (৬ জুলাই ১৯০১ – ২৩ জুন ১৯৫৩) ছিলেন একজন ভারতীয় ব্যারিস্টার, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, হিন্দুত্ববাদী কর্মী এবং প্রাদেশিক ও জাতীয় সরকারের মন্ত্রী। কংগ্রেসের বিরোধিতা করলেও জওহরলাল নেহরু তাঁকে তাঁর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তিনি 'ভারত ছাড়ো আন্দোলন'-এর বিরোধিতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি হিন্দু মহাসভা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় ভারতের শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী (বর্তমান নাম: বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে নেহরুর সঙ্গে মতপার্থক্য সৃষ্টি হলে এবং লিয়াকত–নেহরু চুক্তির প্রতিবাদে তিনি নেহরুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-এর সহায়তায় তিনি ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।
কুমিল্লা বিভাগ হলো বাংলাদেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রস্তাবিত প্রশাসনিক বিভাগ। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার সমন্বয়ে বিভাগটি গঠিত হবে বলে প্রস্তাব করা হয়। এটি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে অবস্থিত মোট ১৩,৩৬৮.২ কিমি২ (৫,১৬১.৫ মা২) জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এবং ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এখানে জনসংখ্যা ছিল ১,৯৩,৬৬,৮০৯ জন। আয়তনের দিক থেকে এটি বাংলাদেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম এবং জনসংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম বিভাগ হবে।
মুহাম্মাদ (আরবি: مُحَمَّد, প্রতিবর্ণীকৃত: মুহাম্মাদ; আনু. ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ – ৮ জুন ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) ষষ্ঠ ও সপ্তম খ্রিষ্টীয় শতাব্দীর ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তার পূর্ণ সম্মানসূচক নাম হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অমুসলিম প্রায় সকল ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক ছিলেন। তবে ইসলামি মতবাদ অনুযায়ী, তিনি আল্লাহর প্রেরিত একজন নবি; যিনি আদম, ইব্রাহিম, মুসা, ইসা এবং অন্যান্য নবিদের একত্ববাদী শিক্ষাকে প্রচার ও দৃঢ় করতে এসেছিলেন। মুসলিমগণ বিশ্বাস করেন যে, মুহাম্মাদ ছিলেন আল্লাহ প্রেরিত শেষ নবি ও রাসুল এবং কুরআন ও মুহাম্মাদের জীবনাদর্শ হলো ইসলাম ধর্মের মূলভিত্তি।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১২ সেপ্টেম্বর ১৮৯৪ – ১ নভেম্বর ১৯৫০) ছিলেন একজন জনপ্রিয় ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তিনি মূলত উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। পথের পাঁচালী ও অপরাজিত তাঁর সবচেয়ে বেশি পরিচিত উপন্যাস। অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে আরণ্যক, চাঁদের পাহাড়, আদর্শ হিন্দু হোটেল, ইছামতী ও অশনি সংকেত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উপন্যাসের পাশাপাশি বিভূতিভূষণ প্রায় ২০টি গল্পগ্রন্থ, কয়েকটি কিশোরপাঠ্য উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনি এবং দিনলিপিও রচনা করেন। বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন। বিভূতিভূষণের অধিকাংশ উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়েছে। ১৯৫১ সালে ইছামতী উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার রবীন্দ্র পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন।
আনন্দবাজার পত্রিকা পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটি শতাব্দী প্রাচীন ভারতীয় দৈনিক পত্রিকা। কলকাতার এবিপি প্রাইভেট লিমিটেড এর প্রকাশক। প্রকাশ-সংখ্যার ভিত্তিতে এটি ভারতে বাংলা ভাষায় বহুল প্রচারিত দৈনিক। কলকাতা, নয়া দিল্লি, ভুবনেশ্বর, রাঁচি, শিলিগুড়ি ও ভারতের অন্যান্য শহর থেকে নিয়মিত এটি দশ লক্ষেরও অধিক সংখ্যায় প্রচারিত হয়। ইন্ডিয়ান রিডারশিপ সার্ভে অনুসারে, পত্রিকাটি ১৫৬ লাখ মানুষ পাঠ করেন।
দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব (সংস্কৃত: दुर्गा पूजा) হল দেবী দুর্গার পূজাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত একটি হিন্দু উৎসব। এটি সারা বিশ্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বারা পালিত হয়, তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ওড়িশা, বিহার, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড, উত্তর প্রদেশ (পূর্বাঞ্চল) এবং বাংলাদেশে ঐতিহ্যগত বিশেষভাবে উদযাপিত হয়। এটি বাংলা বর্ষপঞ্জির আশ্বিন ও কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গাপূজা মূলত দশ দিনের উৎসব, যার মধ্যে শেষ পাঁচটি সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। আশ্বিনের নবরাত্রির পূজা শারদীয় পূজা এবং বসন্তের নবরাত্রির পূজা বাসন্তিক বা বসন্তকালীন দুর্গাপূজা নামে পরিচিত। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কলকাতার দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশে ইসলামি শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন এই দলের উদ্দেশ্য। দলটি ইকামতে দ্বীন (ইসলাম প্রতিষ্ঠা) নামক মতাদর্শকে মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং একে "রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা" অর্থে দলীয় ও রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করে থাকে। এটি পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামী এবং মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড ( ইখওয়ানুল মুসলিমিন)-এর আদর্শ ধারণ করে। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন সম্পর্কিত একটি রুলের রায় দেয়। যা সংগঠনের নিবন্ধন অবৈধ এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত স্বৈরাচার বিরোধী অসহযোগ আন্দোলনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল। তারপর ২৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জামায়াতের উপর অর্পিত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেয়।
ইয়েমেন ( (); আরবি: ٱلْيَمَن, প্রতিবর্ণীকৃত: আল-ইয়ামান; আরবি: ٱلْجُمْهُورِيَّةُ ٱلْيَمَنِيَّةُ, প্রতিবর্ণীকৃত: আল-জুমহূরিয়্যাহ আল-ইয়ামানিয়্যাহ) মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ। এটি আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। সুউচ্চ পর্বতমালা ইয়েমেনের উপকূলীয় সমভূমিকে অভ্যন্তরের জনবিরল মরুভূমি থেকে পৃথক করেছে। ইয়েমেনের জনসংখ্যা অল্প। দেশের অর্ধেকের বেশি অংশ বসবাসের অযোগ্য। এখানকার আরবেরা বেশির ভাগই গ্রামীণ। প্রাচীনকালে এখানে অনেকগুলি সমৃদ্ধ সভ্যতার অবস্থান ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে এলাকাটির গুরুত্ব হ্রাস পায় এবং এক হাজার বছরেরও বেশি সময় এটি একটি দরিদ্র ও অবহেলিত দেশ হিসেবে বিরাজ করছিল। বিংশ শতাব্দীর শেষে এসে এখানে খনিজ তেল আবিষ্কার হলে ইয়েমেনের অর্থনৈতিক উন্নতি ও জনগণের জীবনের মান উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
স্বামী বিবেকানন্দ (১২ জানুয়ারি ১৮৬৩ – ৪ জুলাই ১৯০২; জন্মনাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত) ছিলেন একজন হিন্দু সন্ন্যাসী, দার্শনিক, লেখক, সংগীতজ্ঞ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতীয় অতীন্দ্রিয়বাদী রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য। তাঁর পূর্বাশ্রমের নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে হিন্দুধর্ম তথা ভারতীয় বেদান্ত ও যোগ দর্শনের প্রচারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে বিভিন্ন ধর্মমতের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক স্থাপন এবং হিন্দুধর্মকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্ম হিসেবে প্রচার করার কৃতিত্ব স্বামী বিবেকানন্দের। ভারতে হিন্দু পুনর্জাগরণের তিনি ছিলেন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। সেই সঙ্গে ব্রিটিশ ভারতে তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ধারণাটি প্রবর্তন করেন। বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বক্তৃতাটি হল, "আমেরিকার ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ" ...," ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় প্রদত্ত চিকাগো বক্তৃতা, যার মাধ্যমেই তিনি পাশ্চাত্য সমাজে প্রথম হিন্দুধর্ম প্রচার করেন। স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতার এক উচ্চবিত্ত হিন্দু বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটোবেলা থেকেই আধ্যাত্মিকতার প্রতি তিনি আকর্ষিত হতেন। তাঁর গুরু রামকৃষ্ণদেবের কাছ থেকে তিনি শেখেন, সকল জীবই ঈশ্বরের প্রতিভূ; তাই মানুষের সেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়। রামকৃষ্ণের মৃত্যুর পর বিবেকানন্দ ভারতীয় উপমহাদেশ ভালোভাবে ঘুরে দেখেন এবং ব্রিটিশ ভারতের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন করেন। পরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্ব ধর্ম মহা সভায় ভারত ও হিন্দুধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যাণ্ড ওরে ও ইউরোপে তিনি হিন্দু দর্শনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অসংখ্য সাধারণ ও ঘরোয়া বক্তৃতা দিয়েছিলেন এবং ক্লাস নিয়েছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য চিকাগো বক্তৃতা, কর্মযোগ, রাজযোগ, জ্ঞানযোগ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বেদান্ত, ভারতে বিবেকানন্দ, ভাববার কথা, পরিব্রাজক, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, বর্তমান ভারত, বীরবাণী (কবিতা-সংকলন), মদীয় আচার্যদেব ইত্যাদি। বিবেকানন্দ ছিলেন সংগীতজ্ঞ ও গায়ক। তাঁর রচিত দুটি বিখ্যাত গান হল "খণ্ডন-ভব-বন্ধন" (শ্রীরামকৃষ্ণ আরাত্রিক ভজন) ও "নাহি সূর্য নাহি জ্যোতি"। এছাড়া "নাচুক তাহাতে শ্যামা", "৪ জুলাইয়ের প্রতি", "সন্ন্যাসীর গীতি" ও "সখার প্রতি" তাঁর রচিত কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা। "সখার প্রতি" কবিতার অন্তিম দুইটি চরণ– “বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর?
বন্দে মাতরম্ ("বন্দনা করি মায়") বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক ১৮৮২ সালে রচিত আনন্দমঠ উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত একটি গান। সংস্কৃত-বাংলা মিশ্রভাষায় লিখিত এই গানটি বন্দনাগীতি এবং বাংলা মা তথা বঙ্গদেশের একটি জাতীয় মূর্তিকল্প। ঋষি শ্রী অরবিন্দ ঘোষ বন্দে মাতরম্ গানটিকে "বঙ্গদেশের জাতীয় সংগীত" বলে উল্লেখ করেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই গানটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। কবিতাটি মাতৃভূমির প্রতি একটি স্তব, যা পরবর্তী ছত্রগুলোতে দেশমাতৃকাকে দেবী হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছে। এই সঙ্গীতটি দ্বারা প্রাথমিকভাবে মূলত অবিভক্ত বঙ্গকে নির্দেশ বোঝানো হয়েছিল, তাই "মা" চরিত্রটি বঙ্গমাতা হিসেবে ধরা হয়, যদিও পাঠ্যে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ১৮৯৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে সর্বপ্রথম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গাওয়া হয় বন্দে মাতরম গানটি। উক্ত অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯৫০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা লাভ করলে বন্দে মাতরম্ গানটিকে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা দেওয়া হয়। তবে একাধিক ভারতীয় মুসলিম সংগঠন বন্দে মাতরম্ গাওয়ার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন। তাদের মতে, ভারতমাতার বন্দনাগীতি এই গানটির মূলভাবনা ইসলাম-নিষিদ্ধ পৌত্তলিকতার অনুসরণ করে। ১৯০৯ সালে শ্রীঅরবিন্দ Mother, I bow to thee!
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ (উর্দু: : مسلم لیگ), ১৯০৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক দল যা ব্রিটিশ ভারত এবং ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান তৈরির পেছনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ভারতবর্ষে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণে এই দলটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই দলের বিশিষ্ট নেতাদের মধ্যে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলি খান, খাজা নাজিমুদ্দিন, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, শেরে বাংলা এ. কে.
যোনি (লাতিন: ভ্যাজাইনা) স্ত্রীদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা একই সঙ্গে প্রজননতন্ত্র এবং রেচনতন্ত্রের অংশ। যোনি নারীর প্রজননতন্ত্রের বহির্ভাগ। যৌনসঙ্গমকালে পুরুষ তার লিঙ্গ নারীর যোনিতে প্রবিষ্ট করে এবং অঙ্গচালনার মাধ্যমে বীর্য নিক্ষেপ করে। এই বীর্য নারীর জরায়ুতে অবস্থিত ডিম্ব নিষিক্ত করে মানব ভ্রূণের জন্ম দিতে সক্ষম। অন্যদিকে, নারীর মাসিক রজঃস্রাব কালে যোনিপথেই রক্তের নির্গমন হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় যোনিপথেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।
অনুকূলচন্দ্র চক্রবর্তী যিনি ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র নামেও পরিচিত (১৪ সেপ্টেম্বর ১৮৮৮ - ২৬ জানুয়ারি ১৯৬৯) ছিলেন একজন বাঙালি ধর্মগুরু। অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ নামক সংগঠনের প্রবর্তক। তিনি ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশের পাবনা জেলার হিমায়তপুরে জন্মগ্রহণ করেন, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্গত। ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে মৃত্যুবরণ করেন। ইনি ইষ্টভৃতির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থাপনা উদ্ভাবন করেন।
সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী (উর্দু: ابو الاعلیٰ المودودی; (১৯০৩-০৯-২৫)২৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ – ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯(১৯৭৯-০৯-২২)) ছিলেন একজন ইসলামী পণ্ডিত, ইসলামপন্থী মতাদর্শী, মুসলিম দার্শনিক, আইনবিদ, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক, কর্মী এবং গবেষক, যিনি ব্রিটিশ ভারত এবং পরবর্তীতে দেশভাগের পর পাকিস্তানে সক্রিয় ছিলেন। উইলফ্রেড ক্যান্টওয়েল স্মিথ তাঁকে "আধুনিক ইসলামের সবচেয়ে সুসংবদ্ধ চিন্তাবিদ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অসংখ্য রচনা, যা "কুরআন ব্যাখ্যা, হাদিস, আইন, দর্শন এবং ইতিহাসের মতো বিভিন্ন শাখা আবৃত করে, যেগুলো উর্দুতে লেখা হয়েছিল, কিন্তু পরে ইংরেজি, আরবি, হিন্দি, বাংলা, তেলুগু, তামিল, কন্নড়, বর্মি, মালয়ালম এবং আরও অনেক ভাষায় অনূদিত হয়। তিনি ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং "প্রকৃত ইসলাম" বলতে তিনি যা বুঝেছিলেন তা প্রচার করতে চেয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ইসলাম রাজনীতির জন্য অপরিহার্য এবং শরিয়া প্রতিষ্ঠা করা ও রাশেদুন খলিফাদের শাসনের সময়কার মতো ইসলামিক সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের মতো পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব থেকে উদ্ভূত অনৈতিকতা পরিত্যাগ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের তালিকা
এটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের পর থেকে বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রপতিদের সম্পূর্ণ তালিকা।
Node.js হচ্ছে একটি ওপেন সোর্স, ক্রস প্ল্যাটফর্ম, জাভাস্ক্রিপ্ট রান-টাইম এনভাইরোনমেন্ট যা ব্রাউজারের বাইরে টার্মিনালে কম্পাইল করা হয়, এটি মূলত সার্ভার সাইড স্ক্রিপ্টিং ও কমান্ড লাইন টুল এর জন্য ব্যাবহৃত হয়। এক্ষেত্রে ওয়েব সাইট লোড হওয়ার আগে স্ক্রিপ্ট সার্ভার সাইড এর কম্পিউটারে রান হয় ও ডাইনামিকভাবে ওয়েব পেজ লোড করে। এভাবে ক্লায়েন্ট ও সার্ভার উভয় সাইডেই জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করার মাধ্যমে Node.js "সর্বত্রই জাভাস্ক্রিপ্ট" প্যারাডিজম প্রকাশ করে।
উত্তম কুমার (৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৬ - ২৪ জুলাই ১৯৮০) (প্রকৃত নাম অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়) ছিলেন একজন ভারতীয়-বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা, চিত্রপ্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক। বাংলা চলচ্চিত্র জগতে তাকে ‘মহানায়ক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। উত্তম কুমারকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জাত অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি হলেন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ও সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা। অভিনয় জীবনে অসংখ্য বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদেরও তুমুল প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। তাকে বাঙালি সংস্কৃতির আইকন এবং বাংলার ম্যাটিনি আইডল রূপে ধরা হয়। তার ভক্তরা তাকে “গুরু” বলে ডাকে। তার খ্যাতি মূলত পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ, এছাড়াও পৃথিবী ব্যাপি বাঙালিদের মধ্যে বেষ্টিত। তিনি ২ বার প্রযোজক হিসেবে ও একবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (ভারত) লাভ করেন। তিনি ৮ বার বি এফ জে পুরস্কার (২য় সর্বাধিক) এবং ১ বার ফিল্মফেয়ার বিশেষ পুরস্কার (১৯৭৬) লাভ করেন।
পাকিস্তান, সরকারিভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। ২৪কোটির অধিক জনসংখ্যা নিয়ে এটি জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম রাষ্ট্র এবং আয়তনের দিক থেকে ৩৩তম বৃহত্তম রাষ্ট্র। পাকিস্তানের দক্ষিণে আরব সাগর, ওমান উপসাগরীয় উপকূলে ১০৪৬ কিলোমিটার (৬৫০ মাইল) উপকূল রয়েছে, এর পূর্ব দিকে ভারত, পশ্চিমে আফগানিস্তান, দক্ষিণ-পশ্চিমে ইরান এবং উত্তর-পূর্ব দিকে চীনের সীমানা রয়েছে। এটি উত্তর-পশ্চিমে আফগানিস্তানের ওয়াখান করিডোরের দ্বারা তাজিকিস্তান থেকে সংকীর্ণভাবে বিভক্ত এবং ওমানের সাথে সমুদ্রসীমা ভাগ করে।
সৈয়দ মীর জাফর আলী খান (১৬৯১ – ৫ ফেব্রুয়ারি ১৭৬৫) ছিলেন বাংলার প্রথম নামমাত্র নবাব, যাঁর রাজত্বকাল বাংলায় ইসট শাসন প্রতিষ্ঠার শুরু এবং সমগ্র ভারতবর্ষে ব্রিটিশ আধিপত্য বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভূতপূর্ব বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন। মীর জাফর ছিলেন পলাশী যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এবং বিশ্বাসঘাতক]]। তার অধীনের সৈন্যবাহিনী যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করা ও তার বাংলা-বিরোধী পদক্ষেপের জন্য বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা-কে পরাজয় বরণ করতে হয়। ইংরেজদের সাথে মীর জাফরের পূর্বেই এই মর্মে একটি চুক্তি ছিল যে, যুদ্ধে ইংরেজরা জয়ী হলে মীর জাফর বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব হবেন। বিনিময়ে মীর জাফর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে পাঁচ লক্ষ পাউন্ড ও কলকাতায় বসবাসকারী ইউরোপীয়দের আড়াই লক্ষ পাউন্ড প্রদান করবেন। ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত, সিংহাসনচ্যুত ও নিহত হলে মীর জাফর বাংলার নবাব হন। কিন্তু ব্রিটিশদের দাবিকৃত বিপুল অর্থের যোগান দিতে তিনি সমর্থ হননি। ১৭৫৮ সালে রবার্ট ক্লাইভ তার প্রতিনিধি খোজা ওয়াজিদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, মীর জাফর চিনশুরায় ওলন্দাজদের সাথে একটি চুক্তি করেছেন। হুগলি নদীতে ওলন্দাজ জাহাজের আনাগোনা দেখতে পাওয়া যায়। এসব কিছু চুঁচুড়া যুদ্ধের পটভূমি সৃষ্টি করে।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (জন্ম: ১৩ই মার্চ ১৯৪৯ - মৃত্যু: ২২শে নভেম্বর ২০১৫) যিনি সাকা চৌধুরী নামেও পরিচিত; ছিলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম-২, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী। মৃত্যু আগপর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২২শে নভেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দণ্ডাদেশ অনুযায়ী তার ফাঁসি কার্যকর হয়। তাকে দোষী সাব্যস্ত করায় ট্রাইব্যুনালের বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল। ২০১৩ সালের ১লা অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতন, হত্যা ও গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। উচ্চআদালত ২০১৫ সালের ১৮ই নভেম্বর তার রায়ের পর্যালোচনার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। জেল কর্মকর্তাদের মতে, সালাউদ্দিন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে কৃপাভিক্ষাপত্রের আবেদন জানায়, কিন্তু তার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। অবশ্য তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেতে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে কোনো আবেদন করেননি এবং প্রানভিক্ষা চাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
শুক্র গ্রহ (ইংরেজি: Venus) হল সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ। এই পার্থিব গ্রহটিকে অনেক সময় পৃথিবীর "বোন গ্রহ" বলে আখ্যায়িত করা হয়, কারণ পৃথিবী এবং শুক্রের মধ্যে গাঠনিক উপাদান এবং আচার-আচরণে বড় রকমের মিল রয়েছে। এই গ্রহটি যখন সকালের আকাশে উদিত হয় তখন একে শুকতারা এবং যখন সন্ধ্যার আকাশে উদিত হয় তখন একে সন্ধ্যাতারা বলে ডাকা হয়ে থাকে। এর কোনও উপগ্রহ নাই। এর আসল রঙ হল ফ্যাকাশে হলুদ। ঘন সালফিউরিক অ্যাসিড মেঘের আবরণে সূর্যালোক প্রতিফলিত হওয়ার কারণে এটি মানুষের চোখে কমলা রঙের দেখায়।শুক্র গ্রহ সূর্য থেকে দ্বিতীয় গ্রহ। আকার এবং ভরের দিক থেকে পৃথিবীর অনুরূপ হলেও, শুক্র গ্রহে কোনো তরল জল নেই এবং এর বায়ুমণ্ডল সৌরজগতের অন্য যেকোনো পাথুরে বস্তুর তুলনায় অনেক বেশি পুরু এবং ঘন। বায়ুমণ্ডলটি প্রধানত কার্বন ডাই অক্সাইড দ্বারা গঠিত এবং এর উপর সালফিউরিক অ্যাসিডের একটি পুরু মেঘের স্তর রয়েছে যা পুরো গ্রহ জুড়ে বিস্তৃত। গড় পৃষ্ঠতলে, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ৭৩৭ কেলভিন (৪৬৪ °সেলসিয়াস; ৮৬৭ °ফারেনহাইট) এবং চাপ সমুদ্রপৃষ্ঠে পৃথিবীর চাপের চেয়ে ৯২ গুণ বেশি হয়, যা বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তরকে একটি সুপারক্রিটিক্যাল তরলে পরিণত করে। পৃথিবী থেকে, শুক্র গ্রহকে একটি তারার মতো আলোর বিন্দু হিসাবে দেখা যায়, যা আকাশের অন্য যেকোনো প্রাকৃতিক আলোর বিন্দুর চেয়ে উজ্জ্বল, হয় সবচেয়ে উজ্জ্বল "ভোরের তারা" বা "সন্ধ্যার তারা" হিসাবে।
সাদ্দাম হোসেন একজন বাংলাদেশী ছাত্রনেতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ফেরারি আসামি। যিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ভারতে নির্বাসিত থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (ডাকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হন। তিনি একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্য হন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (সংক্ষেপে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিএনপি) হলো বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মধ্য বা মধ্য-ডানপন্থী রাজনৈতিক দল। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে, ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল, জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি চালু করেন। পরবর্তীতে, রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিলে, তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন আব্দুস সাত্তার।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (জন্ম ২৬ জানুয়ারি ১৯৪৮) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশের বর্তমান ১৭ তম (ক্রমে ২৩ তম) রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী। তিনি সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরবর্তীকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নবাব শাহ কুলী খান মির্জা মুহাম্মাদ সিরাজউদ্দৌলা (ফার্সি: میر سید جعفر علی خان میرزا محمد سراج الدول; ১৭৩৩ – ২ জুলাই ১৭৫৭) ছিলেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব। তিনি ১৭৫৬ থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর রাজত্বের সমাপ্তির পর বাংলা এবং পরবর্তীতে প্রায় সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের উপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সূচনা হয়।
ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহ
ভারত হলো ২৮টি রাজ্য ও ৮ টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়ে গঠিত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় রাজ্যসংঘ। এই দেশের প্রথম স্তরের প্রশাসনিক বিভাগের সংখ্যা ৩৬। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি আবার জেলা ও ক্ষুদ্রতর প্রশাসনিক বিভাগে বিভক্ত।
সূর্য সেন (২২ মার্চ ১৮৯৪ - ১২ জানুয়ারি ১৯৩৪) বা সূর্য কুমার সেন যিনি মাস্টারদা নামে সমধিক পরিচিত, তার ডাকনাম ছিল কালু। ভারতবর্ষের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। পূর্ববঙ্গে জন্ম নেওয়া এই বাঙালি বিপ্লবী তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং নিজ জীবন বলিদান করেন। সূর্যসেনের বাহিনী কয়েকদিনের জন্যে ব্রিটিশ শাসনকে চট্টগ্রাম এলাকা থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। সূর্য সেনের অন্যতম সাথী বিপ্লবী অনন্ত সিংহের ভাষায় "কে জানতো যে আত্মজিজ্ঞাসায় মগ্ন সেই নিরীহ শিক্ষকের স্থির প্রশান্ত চোখ দুটি একদিন জ্বলে উঠে মাতৃভূমির দ্বিশতাব্দীব্যাপি অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে উদ্যত হবে? ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ দমনের জন্য বর্বর অমানুষিক অত্যাচারের প্রতিশোধ, জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ!
ভারতের সংবিধান ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। এই সংবিধানে বহুকক্ষবিশিষ্ট সরকারব্যবস্থা গঠন, কার্যপদ্ধতি, আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ববাদ, গোত্রীয় স্বাতন্ত্র্যবাদ, সমকামী অধিকারত্ববাদ, ক্ষমতা ও কর্তব্য নির্ধারণ; মৌলিক অধিকার, নির্দেশমূলক নীতি, এবং নাগরিকদের কর্তব্য নির্ধারণের মাধ্যমে দেশের মৌলিক রাজনৈতিক আদর্শের রূপরেখাটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদে ২৮৪ জনের সই করলে গৃহীত হয় এবং এই দিনটি জাতীয় আইন দিবস হিসেবে পরিচিত। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে এই সংবিধান জোরদারভাবে কার্যকরী হয়।